স্যালুট, শাস্তি ও চিঠির গল্প: এক ক্যাডেটের কল্পনার চিত্র

 

Bangladesh Military Academy 

পৃথিবীতে, না; বাংলাদেশে অবস্থিত নরকে গমনের সুযোগ পেলেও সেটা স্বল্প সময়ের জন্য ব্যতিত অসম্ভব। দীর্ঘ সময় কাটানোর স্বপ্ন-আশা বুনি না। অসম্ভবের প্রতি ভালোবাসা তৈরি না হওয়া চাই।

কিন্তু, তবুও। নরককে ভালোবাসতে ইচ্ছে করে। নিজের ব্যর্থতার গল্প জানি। নরক সার্ভাইব করার চেয়ে সে পথে ধরে দীর্ঘ জার্ণিতে সফল হতে পারার আত্মবিশ্বাসে আমি দ্বিধান্বিত। আমি তোমার দ্বিধায় বাঁচতে গিয়ে নিজেকে জড়িয়েছি দ্বিধায়। সর্বদা দ্বিধায় আমি জড়িয়ে থাকি। এ দ্বিধা আমার সর্বনাশা।

জীবনের উদ্দেশ্যে বা স্বপ্নের ব্যাপারে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গির পরিণতি জঘন্য। তবুও এখনো আশাহত হতে না চেয়েও আশাহত হয়। তবুও, অন্তরের মদ গিলতে স্বস্থি লাগে। অন্তরের মদ ছেড়ে দিতে গেলে আমার ঘটে বিচ্যুতি। আর, বিচ্যুতি? সে আমাকে ধ্বংস করে চলছে সেই অবুঝ সময় হতে।

আমি এই ভেবে আশ্চর্য হই, সে সময়ের করা নিজের প্রতি বদ-দোয়া যদি কবুল হয়ে গিয়ে থাকে? তবে? আমার অস্তিত্ব বিলীন। তবুও তোমার অস্তিত্ব নিয়ে মস্তিষ্ক ভাবিত হয় এই ভেবে, তোমাকে বড্ড প্রয়োজন।

লেখাগুলোর আকুতি অনেক। আকুতি অবাস্তব।

একবার এদেশিয় নরকে যেতে ইচ্ছে করে। ঘুমাতে দিবে না ঠিকমত, দলের একজনের ভূলে সবাই মিলে পাঙ্গা খাবো, সিনিয়রদের পানিশমেন্ট ফল-ইনে দাঁড়িয়ে রাত পার করা, ক্লাস রুমে ঝিমুনী আর পানিশমেন্ট হিসেবে টেবিল মাথায় নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে গিয়ে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে গিয়ে মাথা ফাঁটানোর ইচ্ছাটা প্রবল।।

আর? তোমার থেকে একটা চিঠি পাবো। সে চিঠিতে তোমার নাম থাকবে। তা দেখে সিনিয়র আমাকে পানিশমেন্ট দিবে। সে পানিশমেন্ট মাথা পেতে নিবো, তোমায় ভালোবাসি বলে। মাটিতে ফেলে দেওয়া চিঠি আমি জিহ্বা দিয়ে টেনে তুলবো। তারপর? ঘুমের জন্য দেওয়া সময়এ না ঘুমিয়ে তোমাকে নিয়ে ভাবিত হবো। কল্পনায় তুমি আমি হেটে বেড়াবো পুরো শহর।

সিটি পাশের প্রবল ইচ্ছা থেকে আমি স্যালুটিং পাশ করে বের হবো। সারাদিন চট্টগ্রাম শহর ঘুরে বেড়াবো। আকাশের পানে তাকিয়ে ভাববো, তোমাকে ভীষণ ভালোবাসি। এরপর আমার সাথে থাকা প্রতিটা ক্যাডেট'কে। যাদের সাথে আমি এক সাথে পানিশমেন্ট ফল-ইন করি।

ইডিতে নাম আসবে আমার। সবাই ঘুমালেও আমি ইডির জন্য ফল-ইন হবো। গাঁদা ফুল চিবিয়ে খাবো শাস্তি হিসেবে। তবুও নরকের প্রতি ইম্প্রেশনের কমতি নেই।

তারপর? মৃত্যু'কে ভালোবাসবো। ব্যাস। দেশ আমার একমাত্র ভালোবাসা।

লেখার সময়: মার্চ ০৪, ২০২৪

 

Comments