এই ভালোবাসা চাই না

এই ভালোবাসা চাই না
আরিফুল ইসলাম
এ কেমন উদাসীনতা? গণিতে মন বসছে না কেন জানি। অথচ, উদ্দেশ্য ব্যর্থ হতে চলছে আমার। কি অসাধারণ ব্যর্থতার দিকে ধাবিত তনু-মন। 
আমানিয়া হোটেলের গল্প শুনবেন?  আচ্ছা , আপনি হোটেল বা রেস্টুরেন্টে খেতে গিয়ে খাবার অর্ডার দিয়ে বসে রইলেন। হঠাৎ একজন ওয়েটার এসে আপনাকে জিজ্ঞেস করল- আপনার অর্ডার হয় নাই? আপনি হ্যাঁ সূচক ভঙ্গিতে মাথা দুলালেন। অর্থাৎ আপনার অর্ডার হয়েছে।
প্রশ্নটার একটা ব্যঞ্জনার্থ আছে। সেটা  বুঝলে সমস্যা। হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ানোতে মনে হবে আপনার অর্ডার হয় নি।

 

কারো প্রেমের সম্পর্কের ভেতরটা বুঝেন?  ‘ভালোবাসা’ শব্দটার কি বা ব্যাখ্যা দিবেন? এই যে উদাসীনতা, এক রাশ হতাশা, চোখের জলে বালিশ ভেজানো এসবের মানে জানেন?   
তোমাকে কি আসলে ভালোবাসি? এই ভালোবাসা কার জন্য? 

এই জনমে আমার আসল উদ্দেশ্য, আমার লক্ষ্য কি?  কেন-ই বা আমি এই সসীমে আগন্তুক?  কেন-ই বা মেয়েলি কণ্ঠের প্রতি এত আকর্ষণ? 
কেন-ই বা একজন মহীয়সীকে নিজের সঙ্গী, নিজের বন্ধু, নিজের প্রিয় বানানোর আপ্রাণ ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা?  এই ইচ্ছা-আকঙ্ক্ষার ব্যাখ্যা কিভাবে? 

এই পৃথিবীর সমীকরণ অদ্ভুত, নাকি আমরা অগোছালো করে রেখেছি সব?  

মাঝে মাঝে নয়, প্রতিটা মুহুর্ত নিজের সাথে, নিজের মনের সাথে যে লড়াই হয়, যে লড়াই বুঝার জন্য ব্যঞ্জনার্থ কে বুঝবে? আমি-ই তো হোঁচট খাই। কল্পিত কারাবাস হয়ে যায়।  নিজের স্বাধীনতাহীন পরাধীনতার শেকল আঁকড়ে ধরা, বেঁচে থাকা, মানসিক প্রশান্তির আর নয়ন শীতলকারীর ভাবনা এসবই যদি শুধু থাকতো! কি সুন্দর, তোমায় ভালোবাসি।

ক্ষদ্র এ মানবজীবনের উদ্দেশ্য- কাউকে ভালোবাসা। নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, আহ!
এরকম ভালোবাসা কি আসলে অস্তিত্বশীল?

সসীমের মায়াত্যাগের আকাঙ্ক্ষা নেই। তবে সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে। 

 বাস্তবিকেই- জীবনের স্রোতে প্রাপ্যতাবোধের চিন্তা জরাজীর্ণ নয়। আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে। স্রষ্টা ছাড়া পৃথিবী, অসীম জগৎ এর ব্যাখ্যা কি?

স্রষ্টার নির্দেশনা বিনে নির্দেশনা কি? কোথা হতে আসবে এ নির্দেশনা? নাকি নির্দেশনা একেবারেই অপ্রয়োজনীয়? আরেহ,  মানুষ নির্দেশনা প্রণয়ের ক্ষমতা পেয়ে গেছে?
 উফস, হাপিয়ে উঠেছেন নাকি?

সময় এখনো বাকি, আমি তোমাকে ভালোবাসি।

প্রশ্ন জাগে না, তুমি-টা আবার কে?  মুনতাহা, নামটা কেমন? মেহরিমা সুলতানা? হাজেরা খাতুন? কিংবা সানা আফরিন?  না। কিছুই মিলছে না।

আসলে , তুমি আমার অনিশ্চিত ভবিষ্যত , যার জন্য স্বপ্ন বুনি, যার জন্য- যার জন্য আমার বিষন্নতা, যার জন্য আমার শত যন্ত্রণা, যার জন্য নিজের নফস নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা, যার জন্য নিজেকে শুদ্ধ রাখার ভাবনা তাকে ভালোবাসি বলতে আমার লজ্জা নেই। সে তো সে। একান্তই আমার।

তোমায় ভীষণ স্বপ্নিলে আঁকি। ছন্দে সাজাই তোমার মুখ আবয়ব। তোমার কোন বিরহ আমায় শোনাবে ভাবছো? আমার ব্যঞ্জনার্থ বুঝতে শেখাবো না তোমায়? নাকি শিখে নিবে? না থাক, তুমি আমার শিক্ষীকা হয়ে শিখিয়ে দিও তোমার ব্যঞ্জনার্থ বোঝার কৌশল।

তুমি আমার আগমণ নিয়ে ভাববে না কখনো?  তোমার আগমণ আমি জানি। আমার মহান রবের হতে আগমণ এই সসীমে। কোনো এক মাতৃগর্ভে, তারপর ? তারপর মায়ের অপ্রাণ ত্যাগ-ভালোবাসা মেখে  বাবার কোলে আলো ফুটানো। কি অদ্ভুত!  কোথাকার কি কোথায় এখন!

আমিও একই পন্থার পথিক। ভিন্ন পথ কখনো নয়।

সেই পথগুলোর প্রতি মায়া কেমন তোমার? আমার জানতে চাও? নিছক দূর্বলতা। তোমার জন্য আমার কলম, মস্তিষ্ক যতটা গতিময়তা পেয়ে ছুটে বেড়ায় তদের জন্য  দিতে হয়।

তোমাতে আমি ভরসাহীন। রবের ভরসা পেয়ে তবেই তোমার ভরসা পেতে চাই। 
আমার কল্পনাগুলো কতটা মূল্যহীণ , জানো? বলবো না কখনো তোমায়!

তুমিই নয়নের প্রশান্তি, মনের  এক ছোট্ট ঘর, তুমিই কল্পিতা হতে বাস্তবতা। 

২রা ডিসেম্বর ২০২২ইং,  মধ্যরাত, চৌমুহনী, নোয়াখালী।

Comments

Post a Comment

Thank you!