কাপ্তাই কাহন । পর্ব-০১

নতুনত্ত্বের
সাথে পরিচিত হওয়া এক প্রকার এডভেঞ্চার।
ভ্রমণ সর্বদা আমাকে-আপনাকে এই নতুনত্ত্বের সাথে
পরিচয় করিয়ে দিতে চাইবে।
তাই,
আপনি শুধু ভ্রমণকে আগলে রাখবেন। এডভেঞ্চার আপনার প্রিয় খেলা হয়ে উঠবে।
গণিত
পরিবারে প্রবেশের দীর্ঘ দেড় বছর পর "কাপ্তাই কাহন" শিরোনামে রাঙামাটি ভ্রমণে যাওয়ার সুযোগ সামনে আসে।
অর্থনৈতিক
দূর্বলতা সত্ত্বেও যাওয়ার আকাঙ্খা ছিলো প্রবল। তবুও যাবো কি যাবো না,
এই দ্বিধায় ছিলাম ২৪ ফেব্রুয়ারি তারিখ
পর্যন্ত।
২৫
ফেব্রুয়ারি বিকেলে মেসেঞ্জার গ্রুপের বরাতে জানতে পারি, আমার তথা ২৭ব্যাচের আসন বাস-০২ এ। এর মধ্যে
হঠাৎ মাজেদ ভাইয়ার সাথে যোগাযোগ শুরু হয়। আমার ব্যাচের ব্যাচ প্রতিনিধির বিষয়ে উনাকে অবগত করতে হল। উনি একটা চমৎকার কাজ করেছেন।
পুরো
বাসে সকল সফর সঙ্গীদের জন্য আসন নির্ধারণ করছিলেন। আমাকে সেই আসন বিন্যাস পাঠালেন। আমি দেখে অবাক। ভাইয়াকে একটা টোপ দিলাম। বললাম, '২৭ ব্যাচের সবাইকে
এক সাথে দেন। আমরা ২টা মাত্র ছেলে। ২৭ ব্যাচের মেয়েদের
পিছনে আমাদের আসন দিয়ে দিন'
উনি
পরবর্তীতে আসন বিন্যাসে পরিবর্তন আনলেন। আমরা ২৭ ব্যাচের সকলে
(৯জন মেয়ে, ২জন ছেলে) এক সাথে। আমরা
মাত্র ২জন ছেলে কেন যে এই ভ্রমণে
যাচ্ছি তা আজ অবধি
খুঁজে পাচ্ছি না।
সন্ধ্যায়
আমি আমার আবাস্থল ছাড়ি রাঙামাটির যাবার উদ্দেশ্যে। যদিও বাস ছাড়ার কথা ছিলো রাত ১১টা।
আমি
আমার কার্যাবলির ফাঁকে আমার ব্যাচমেট ও একমাত্র ব্যাচমেট
হিসেবে ছেলে সফরসঙ্গী সাইফুল ইসলামের সাথে দেখা করি।
আমি
১০.৩০ মিনিট এর
দিকে ফ্রেশ হওয়ার অজুহাতে সাইফুল ইসলাম কে একা ফেলে
যায়। আদতে সে একা না।
তার সাথে আমাদের সফরসঙ্গী হিসেবে থাকা নারীদের একটা গ্রুপ।
আনুমানিক
সময় ১১.০৮ মিনিট।
সাইফুল ইসলামের ফোন। বলে, 'কিরে! কই তুই? আমরা
বাসে উঠে গেছি'।
আমি
বলি, 'আসতেছি'।
বাস
অবধি আসার পথে ছেলেটাকে মনে মনে গালি দিলাম। কেন এই পোলা আমারে
রাইখা বাসে উঠছে?
বাসে
এসে দেখি, কেউ বাসে উঠে গেছে। কেউ এখনো বাইরে দাঁড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছে। বাসে উঠে গেলাম । ব্যাগ রাখলাম।
কিন্তু, বিকেলে করা সেই আসন বিন্যাসের ব্যবহার পেলাম না। আমি আশাহত হলাম। কিন্তু, অনুগত কিংবা সিনিয়রিটির সুবাধে সিনিয়রদের দেওয়া সিদ্ধান্ত মেনে নিলাম। আমার অবস্থান যেখানে হোক না কেন, আমার
আসন বাসের লাস্ট সিটে। এই বাসের একমাত্র
আমরাই জুনিয়র।
২৮
ব্যাচ যদি আমাদের বাসে থাকতো, তবে নির্দ্বিধায় তাঁদের অবস্থান হতো আমাদের অবস্থানে। বাসের শেষে।
সে
যাই হোক, আমার ব্যাগ কেবল সর্বদা বাসের পেছনে ছিলো। আমি বাসের মধ্যখান থেকে শেষের আসনের মধ্যে ঘুরপাক খেতে খেতে রাঙামাটি পৌঁছায়।
কালো
চশমা। এইটা কেন জানি এই প্রজন্মের ফ্যাশনে
রুপ নিয়েছে। আমিও এই চশমার পিছনে
নিজের অর্থ বিনিয়োগ করেছিলাম। একমাত্র কালো চশমার মালিক। এই চশমা যেন
আমাকে জীবনে এক ধাপ পেছানো
থেকে বাঁচিয়ে রেখেছে।
বাসের
মধ্যে থাকা সাউন্ড বক্সের নিয়ন্ত্রণ শুরুতে আমার কাছে ছিলো। আমি যা চালাতে যাই
না কেন, তা নাকি ছ্যাঁকা
খাওয়া, সবার অপছন্দ। বাদ দিলাম এই সাউন্ড সিস্টেমের
নিয়ন্ত্রণ। শুরুতে এই বিনোদন(!) পর্যবেক্ষন
করতে করতে চলে যাচ্ছিলো সময়। বাইরে তাকিয়ে দেখি , ট্রাক উল্টে আছে। আরও কত কি!
রাত
১.৩০ মিনিট। এসে
পৌছেছি বারইয়ারহাট। বিরতি দেওয়া হলো আমাদের। আমার পকেটে পর্যাপ্ত অর্থ নেই। কিপটামি না করে পারছিনা।
সিনিয়রদের খুঁজে খুঁজে খাবারের অফার নিতে চেষ্টা করলাম। এক কাপ চা
খাওয়ালেন একজন সিনিয়র ভাইয়া। নামটা এখন স্মরণে আসছে না।
সুইস
গার্ডেন এরিয়াতে আমরা কাটালাম প্রায় আধা-ঘন্টা।
মধ্যরাতে
বাসের লাস্ট আসনের সারিতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম আমরা ২জন। ২ব্যাগ মাঝখানে রেখে মাথা রাখি পাশাপাশি দু'জনে। সে
কি ঘুম!
কতক্ষণ
ঘুমিয়ে তা জানি না।
ঘুম ভাঙ্গার পর দেখি গায়িকাদের এনার্জি এখনো কমেনি। আমি উঠে গেলাম গায়িকাদের কাছে। গান আমি গাইতে পারি না। গাওয়ার চেষ্টাও করি না।
![]() |
| ছবি-০১ |
![]() |
| ছবি-০২ |



Comments
Post a Comment
Thank you!