অন্তরজ্বালা আর আত্মবিশ্লেষণের অনুপম মেলবন্ধন—আমার শহরে এখনো তোমার অস্তিত্ব!

এই গল্প হতাশাকে প্রকাশ করে, এই শব্দচয়ন বিষন্নতার বহিঃপ্রকাশ হওয়া সত্ত্বেও শব্দচয়নের মাধ্যমে তা অস্বীকার করা হবে খুব সচেতন ভাবে।

পরিক্ষা সামনে, প্রত্যাশিত প্রস্তুতির সংজ্ঞায়ন কি হবে তা নির্ধারণ না করে প্রস্তুতিকে ভালো বা খারাপ হিসেবে বিশ্লেষায়িত করলে মনের স্বস্থির পরিবর্তন নেগেটিভ হওয়া প্রত্যাশিত।

কেন যেন পাশের আকাঙ্খা অবধি এই মস্তিষ্কে রিচ করতে পারছে না। মনস্তাত্ত্বিক হতাশা-বিষন্নতা পেয়ে বসেছে।

ভালো লাগছে না, পড়ার জন্য মস্তিষ্কে প্রেষণার অভাব যথেষ্ট।

ইচ্ছে করছে কোথাও হারিয়ে যেতে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য, যে অনুভূতি জন্মেছিলো আড়াই বছর আগে! কেন যেন আমি সে সময়ের সাথে এখন কার সময়ের মিল পেয়ে যাচ্ছি। এ কি একই পথে হাটা?

সেদিন হুট করে এই শহরে ছেড়ে রাতে পাড়ি জমিয়েছিলাম চৌমুহনী শহরে। চৌমুহনী শহরের সে স্টেশন। রেলওয়ে স্টেশন। আমার একান্ত সঙ্গী।

একাধিক কারণের মিশ্রণে কাউকে সেদিন মিথ্যা বলতে হয়নি। একটা মানুষকে এই স্টেশন থেকে রিসিভ করার গল্প সত্য।

সে রাতে একটা নাম জানতে পারি। নামটা বিষন্ন সুন্দর। আমার পছন্দের। মানুষটাও ছিলো আবেগের। ধ্রুব মিথ্যা গল্পের ছলে সব কিছুইই দ্বিধান্বিত !

বেঁচে থাকা কেবল অর্থহীন কি না তা নিয়ে সংকিত হওয়া ছাড়া আর কোনো জটিল প্রশ্ন জাগে না মনে। কত স্বপ্ন, কত আশা। এই সব শব্দচয়ন কেবল এখন ডাস্টবিনের আবর্জনা। স্বপ্ন, আশা বুনিনা অনেক দিন ধরে। সেই কবে , তোমাকে হারিয়েছি! নিজের হত্যার অধ্যাদেশ জারি করেছি অর্ধ-দশক আগে। বেঁচে আছি, উপলব্ধি করছি, হতাশায় উদাসীন হচ্ছি, মনোরোগে ভুগছি, অনেক কিছুতে হারিয়েছি নিজেকে।

নিজের চিন্তার উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে যে ব্যর্থতা , তার জন্য কাঠগড়ায় কাকে তোলা উচিত হবে তা নির্ধারণেও আমার ব্যর্থতা।

বিচ্ছিন্নতা কিংবা সংযুক্তি, বিচ্ছেদ কিংবা সংযোগ, সব ছাপিয়ে আমার শহরে তোমার অস্তিত্বকে টিকিয়ে কেন রাখি, তার রহস্য বুঝে উঠতে পারি না।

সময়ের সাথে গাঢ়তা বৃদ্ধি কিংবা হ্রাসের যে পরিবর্তন তাতে কেন শুন্যতা নেমে আসে না, তার উত্তর আমার অজানা।

অসম্ভবের প্রতি মোহ কিংবা ইম্প্রেশন কেন থেকে যায় তবুও , তা এখন জটীল সমস্যা।

ট্রিলিয়ন ডলারের এই ব্যবসায়িক মার্কেটে অনুপ্রবেশ ব্যতিত, সভ্যতার চুড়ায় যেন উঠে যেতে পারছি না। এই মস্তিষ্কই যেন প্রধান শত্রু। শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক প্রস্তাবিত লাহোর প্রস্তাবের সাথে নিজের দেহের প্রতিটি অংশ নিয়ে আলাদা আলাদা স্বাধীন অংশ হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনেক। মস্তিষ্কের যাতনার প্রভাব মনে আসবে না, মনের যাতনা মস্তিষ্কে না। যে অংশ পড়তে চাইবে, সে অংশ পড়তে পারবে। যাতনা গুলো এতে বিরক্ত করবে না, মনোযোগ বিচ্ছিন্ন করবে না।

কেন যে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর মতো প্রতিটি অংশের আলাদা আলাদা স্বাধীনতা না হয়ে একক স্বাধীণতায় সব আবদ্ধ হয়ে যায়, তা বুঝে উঠি না।

অন্তরের মদ তথা গানের প্রতি যে আসক্তি, তার প্রখরতা বিশাল হয়ে যাচ্ছে দিন দিন!

অবসাদ, বিষন্ন, মৃতপ্রায়!

লেখার সময়- অক্টোবর ১৮, ২০২৪।

 


Comments