আমবস্যার রাতে আমি নিজেই নিজের ভয়

'তারচেয়ে ভালো ছিল/তুই নিজ হাতে খুন করে যেতি'

গত কয়েকদিন ধরে আমার চোখ লাল হওয়ার প্রবণতা বেড়ে গেছে। জীবনের এমন এক মুহুর্তে আছি, সব কিছু যেন থমকে গেছে। যেন আমি একটা চক্রাকার যুক্তি দিয়ে জীবনকে বাঁচিয়ে রাখছি।

বর্তমান জীবনের একটি মৌলিক বিষয়ের প্রতি আমার অবহেলা আকাশসম।

আমি যে মুক্ত তা ভুলে যায় বার বার। ছন্নছাড়া জীবনের যে পরিক্রমা তা কেন যেন অপরিবর্তনীয়।

এই শহরে আমার সর্বশেষ বন্ধু হিসেবে যাকে ভেবেছিলাম, তাকে আমি আমার জীবন থেকে মুছে ফেলার ভাবনা নিয়ে ফেলেছি। এই গল্পটা আমাকে হতাশ করলেও অপরাধবোধ জাগে না।

শুরুতে একটা গানের দুটো লাইন লিখেছি। গানের মর্মার্থ খুবই ভয়াবহ। মৃত্যু নয়, বরং একটা খুন প্রত্যাশিত। খুনিকে মৃতদেহ টি যেন এখনো ভালোবাসে।

মানুষের মনস্তাত্ত্বিক চিন্তা তার আচরণ, স্বভাবের বহিঃপ্রকাশ। এটাকে ধ্রুব সত্য ধরে নিলে মনস্তাত্ত্বিক হতাশায় কেবল আমার জলজ্যান্ততা। সে সময়টুকু হাসি মুখের দেখা মিলে, সে সময়টুকু আমি আমাতে থাকি না, থাকি অন্য কোনো সত্তার আড়ালে। আমার হাসি-আনন্দ কিংবা এক রাশ স্বস্থির নিঃশ্বাস কখনো যেন জন্মেনি।

এখনো প্রায় একা একা নিশাচরের মত হেটে বেড়ায়। আকাশের চাঁদ কিংবা তারাগুলো; আমাকে সঙ্গ দেয় নিয়ত। আমবস্যায় আমি বের হতে সাহস করি না। করা উচিত। এটা কি খুন নাকি আত্মহত্যা, এই আলাপনায় শিরোনাম হয়ে যাবো আমি। শিরোনাম হওয়া কি এই জীবনের প্রাপ্তি নয়?

গত বৃহস্পতিবার, এক বন্ধুর সাথে প্রায় ৩০ মিনিট হেটেছি রজনীতে। শেষে একটা চমৎকার সিদ্ধান্তে আমরা দু'জন পৌঁছে ছিলাম। আর তা ছিলো আমার এক মামার দেওয়া উক্তি। সে সময় আমি দশম কি নবম শ্রেণীতে। বলেছিলো,এখন তুমি যাকে পছন্দ করছো, তোমার ব্যাচমেট; সে আসলে তোমার মায়ের সমান।

তবুও একটা মনীষী'কে কল্পনায় এঁকেছিলাম। ফলাফল ছিলো সুন্দর। আমি পেয়েছি "আসমা"কে। যাকে তৈরি করতাম আমি। পেয়েছিলাম আরো কিছু মানুষ। যার সাথে হাতে হাত রেখে হাঁটতে পারতাম অবলীলায়। সে ছিলো আমার মন বুঝতে
সক্ষম একজন মানুষ। অথচ সে আমার বয়সী কিন্তু রমণী। সময়ের পরিক্রমায় তার অবস্থা এখনা আমার অজানা। আহ! আমাদের সেই ভালোবাসা, আড্ডা, রেললাইনে অহেতুক সময় কাটিয়ে ক্লাস মিস দেওয়া কিংবা হুট করে সকালে সুগন্ধা বাস ধরে ফেনি চলে গিয়ে আবার সন্ধ্যায় ফিরে আসা। কেউ কি জানে, আমাদের এই প্রেম? আমিই তো জানতাম না যে, একসময় এগুলো স্মৃতির স্তুপে অনেক বেশি জায়গা নিবে।

অস্তিত্বে কেবল ধ্রুব সত্য কি?

লেখার সময়- নভেম্বর ০৯, ২০২৪

 

Comments