কাপ্তাই কাহন । পর্ব-০২

কাপ্তাই কাহন  পর্ব-০২  

২৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭ টা ২৭ মিনিটে ২৮ব্যাচের তন্ময় সূত্রধর (Tonmoy Sutradhor) মেসেঞ্জার গ্রুপে কিছু গানের লিরিক্স দিয়ে রেখেছিলো। 

গায়িকাদের এই গান গাওয়া থামানোর আগ্রহ প্রবল থাকে স্বত্ত্বেও আমরা তাদের আগ্রহে ভদ্র শ্রোতায় পরিণত হই। চলতে থাকুক এই গানের আয়োজন।

পরবর্তীতে আমরা কয়েকজন বাসের পেছনে বসে নতুন একটা গানের আসর জমাতে চাইলাম। এই আসরের নেতৃত্ব যদিও আমি দিচ্ছি, তবুও জমছে না। লিরিক্স দেখে গান গাওয়ার বৃথা চেষ্টা করছি, মুখস্থ থাকা গান গুলোর মধ্যে কারো কমন গান পাচ্ছি না। তবুও ….

রাত কয়টা হোটেল গ্রিন ক্যাসেলে গিয়ে পৌঁছেছি তার হিসেব নেই। ফ্রেশ হয়ে সবাই একটা ঘুম দিতে চাইলাম। কিন্তু, এতজন মানুষের জন্য পর্যাপ্ত বিছানা নেই। পর্যাপ্ত বিছানা বা রুম ম্যানেজ করতে গেলে এই ভ্রমণের খরচ যে চাঁদে উঠবে তা নিশ্চিত। তবে, এই যে সবাই এক সাথে, একে অপরকে স্যাক্রিফাইস করে, নিজের সুবিধা না ভেবে - সবার সুবিধা মাথায় রেখে বিছানার এক পাশে চুপিসারে ঘুমিয়ে যেতে পারা; তা বড় সৌভাগ্যের।

সকাল ৭টা। আমরা সবাই সকালের খাবার খেতে ক্যাফে সাইমিন রেস্তোরাঁয় গেলাম। খাবারে ছিলো ডিম খিচুড়ি। এই খাবার খেতে গিয়ে সুন্দর এক নিয়ম চোখে পড়ে। আমরা অনেকে চলে আসছি। কিন্তু, এলোমেল ভাবে রেস্টুরেন্টে বসে গিয়ে ছিলাম। উনারা এসে জানালো, সবাই এক এক করে টেবিল পরিপূর্ণ করে বসুন। তারপর খাবার দেওয়া হবে। আমি যে টেবিলে সে টেবিলে লোক মিলাতে চেষ্টা করছিলাম। অবশেষে পেয়ে গেলাম। খাবারও চলে আসছে। খাবার খেয়ে হোটেল রুমে ফিরে আসলাম। পরবর্তী গন্তব্য- কাপ্তাইল লেক।

ঘড়ির কাঁটা ৮টা ৩০ মিনিটে। আমরা রিজার্ভ বাজার লঞ্চ ঘাটে। ট্রাভেল গ্রুপ অব নোয়াখালী (Travel Group Of Noakhali (TGN)) কর্তৃপক্ষ পূর্বেই আমাদের জন্য ২টি ইঞ্চিন চালিত বোট ভাড়া নিয়ে রেখেছে।

সবাই উঠে যাওয়ার পর বোট চলতে শুরু করলো। দুইটা বোটকে নাম্বারিং করা হলো। আমি যে বোটে তাকে ১ম বোট অন্যটি ২য় বোট নামে পরিচিত করিয়ে দেওয়া হলো। সেই থেকে আমরা ২টা গ্রুপ হয়ে গেলাম। দুইটি বোট আগে-পিছে সর্বদা ঘুরে বেড়িয়েছে এক সাথে।

সময় আনুমানিক ৯টা ২০মিনিট। আমরা পৌঁছেছি উপজাতি মার্কেট ও বৌদ্ধ মন্দির সংলগ্ন ঘাটে। বোট থেকে লাফ দিয়ে নামা নিষেধ বলা সত্ত্বেও কয়েকজন লাফ দিয়ে ফেললো। একজন রমণীর দেখাদেখি আমিও সে অবাধ্যদের দলে ভিড়লাম। সিড়ির নিকটে এসে কয়েক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে থেকে টুপ করে লাফ দিয়ে ফেলেছিলাম।

প্রথমে কি বৌদ্ধ বিহার যাবো নাকি উপজাতি মার্কেট যাবো?

এই দ্বিধায় ছিলাম অনেকক্ষণ। সবার সাথে তালমিলিয়ে অবশেষে আমিও রওনা দিলাম উপজাতি মার্কেটের দিকে। যাওয়ার পথে মাজেদ ভাইয়ার (Mazed) খরচে খেয়ে নিলাম আনারস। পাহাড়ী আনারস। স্বাদে অতুলনীয়।

মার্কেটের শেষ পর্যন্ত চলে গেলাম। এবার ফিরে আসার পালা। মার্কেটে যা ছিলো, তার অধিকাংশই আমি বান্দরবান ভ্রমণে গিয়ে দেখে এসেছিলাম। ভিন্ন কিছু চোখে পড়ে নি। পড়লেও আমার দ্বারা যে কেনা হবে না , তা আমি জানি। তাই কোনো কিছু পছন্দ করার চেষ্টাও করিনি। অনেকে অনেক কিছু কিনেছে। আমি কেবল দেখেছি।

মার্কেট থেকে ফেরার পথে পেয়ে গেলাম বৌদ্ধ মন্দিরে যাওয়ার সহযোগী।

আমরা ৩জন ব্যাক্তি বৌদ্ধ মন্দিরের দিকে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মন্দিরে যাওয়ার পথে এসে দাঁড়িয়ে রইলাম। কাউকে পাচ্ছি না। যাবো কি যাবো না দ্বিধায় দাঁড়িয়ে রইলাম। এত উচু পাহাড়ে উঠতে আমি সাহসী হলেও দুই রমণীর জন্য বিড়ম্বনা।

এক সিনিয়র ভাইয়ার সাথে কথা বলে আমরা রওনা দিলাম উপরের দিকে উঠা। পানি খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা জেগেছে। অথচ পানি নেই আমার সংগ্রহে। উপরে উঠে একটু ক্লান্ত হলেও তা মুহুর্তেই বিলীন।

এসে দেখি, আরো অনেকে এখানে আগেই এসে গেছে। তাঁদের আসার পথ ছিলো ভিন্ন। এই ভিন্নতা আমাদেরকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছি কিছু মুহুর্ত।

আমরা পাহাড়ের উপর একটা গ্রুপ ছবি নেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম।

বি. দ্র.- প্রতিটি পর্বের শব্দসীমা ৫০০-৫৫০ টি।

কাপ্তাই কাহন  পর্ব-০১ 


কিছু স্মৃতি নিম্নে সংযুক্ত করা হলো। 





Comments